নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ, কটূক্তি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কিছু নওমুসলিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি ও হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বান্দরবানের আলীকদমের তরুণ নওমুসলিম সাইফুল ইসলাম ত্রিপুরা বলেন, “আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমি মুসলিম। আমার যে কোনো ধর্ম গ্রহণ বা পালন করা এবং প্রচার করা আমার সাংবিধানিক অধিকার।” এর আগেও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের অংশ। ফলে কোনো নাগরিক নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ, পালন বা পরিবর্তন করার কারণে হুমকি, হামলা কিংবা হয়রানির শিকার হলে তা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয়।
এর আগে ২০২১ সালের ১৮ জুন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি আগাপাড়ায় নওমুসলিম ও ইসলাম প্রচারক ওমর ফারুক ত্রিপুরা নিহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় জেএসএস-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত, আদালতের নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো অঞ্চলে ধর্ম পরিবর্তন বা ধর্ম পালনের কারণে কোনো নাগরিককে ভয়ভীতি, নির্যাতন, হামলা কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হলে রাষ্ট্রের দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন