নেশন টুডে২৪ | বিশেষ প্রতিবেদন
বগুড়া, ২১ মে ২০২৬
বগুড়ার শাজাহানপুরে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম জয়ন্ত কুমার সাহা (৩২)। সে উপজেলার ডেমাজানি গ্রামের বাসিন্দা। এই জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী তরুণীর নাম রিমা সুলতানা, যিনি শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতারণার জাল ছড়ানো হয় দীর্ঘ সময় ধরে, যার পেছনে ছিল একের পর এক কৌশল ও আইনি নথির মারপ্যাঁচ।
প্রেমের ফাঁদ ও প্রথম দফার আইনি বিচ্ছেদ
রিমা সুলতানা জানান, জয়ন্ত কুমার সাহা প্রথমে নিজের আসল ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে জয়ন্তের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে রিমা এই সম্পর্কে আপত্তি জানান। সে সময় জয়ন্ত প্রতিশ্রুতি দেয় যে, সে ভবিষ্যতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে।
এই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ২০২৩ সালের ৭ মে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। এর কিছুদিন পর, ২৩ মে, ‘উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে’ এই শর্তে একটি আইনি এফিডেভিটও করা হয়।
তবে বিয়ের পর পরই জয়ন্তের আসল রূপ প্রকাশ পায়। সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে সাফ অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো রিমাকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপ দিতে থাকে। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছালে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক বসে। সেখানে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে।
‘ক্যাচ অ্যান্ড ট্র্যাপ’: দ্বিতীয় দফায় মন্দিরে বিয়ে ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর
রিমা সুলতানা অভিযোগ করেন, প্রথম বিচ্ছেদের প্রায় আট মাস পর জয়ন্ত পুনরায় রিমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। এবার সে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং আবারও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জোরালো আশ্বাস দিয়ে রিমাকে আশ্বস্ত করে।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩ জুলাই বগুড়া শহরের বাদুরতলা প্রেসপট্টি এলাকার ‘শ্রী শ্রী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরে’ হিন্দু রীতি অনুযায়ী তাদের পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিয়ের সময়ই অত্যন্ত সুকৌশলে রিমার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ফাঁকা (ব্ল্যাঙ্ক) স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় জয়ন্ত ও তার সহযোগীরা।
নোটারি পাবলিকে জালিয়াতি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর
মন্দিরে বিয়ের পরদিনই, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৪ জুলাই, বগুড়া জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আগের দিন নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে একটি জালিয়াতিপূর্ণ এফিডেভিট তৈরি করা হয়। ওই এফিডেভিটের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, রিমা সুলতানা স্বজ্ঞানে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে ‘রিমা রাণী সাহা’ রাখা হয়েছে।
পরবর্তীতে রিমার অজান্তে তৈরি করা এই ধর্মান্তরের কাগজপত্র সামনে আসলে তিনি নিজেকে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেন। নিজের ধর্ম ও আত্মপরিচয় ফিরে পেতে এবং প্রতারক জয়ন্ত কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বর্তমানে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক | নেশন টুডে২৪
মন্তব্য করুন