ব্রেকিং নিউজ
আবু সাহেদ
২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মক্কা চুক্তি: ‘ইসলামি ন্যাটো’ নয়, ঢাকার জন্য নিশ্চিত নিরাপত্তাও নয়!

মক্কা চুক্তি: ‘ইসলামি ন্যাটো’ নয়, ঢাকার জন্য নিশ্চিত নিরাপত্তাও নয়!

–

৭ আগস্ট ২০২৬, মক্কায় একসাথে দাঁড়ালেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। লক্ষ্য – একটি বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা, যার মূল কথা: তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকিদের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।[১] এই ঘোষণার পরপরই প্রধান মিডিয়া ন্যারেটিভ হিসেবে যা সামনে এসেছে, তা হলো – একটি ‘ইসলামি ন্যাটো’র জন্ম। প্রশ্ন হচ্ছে, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে এই তুলনাটি কতটুকু টেকসই?

.

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদ ও ইসলামাবাদ যে দ্বিপাক্ষিক ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই করেছিল, মক্কা চুক্তি মূলত সেটারই এক সম্প্রসারিত রূপ, যেখানে নতুন পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে তুরস্ক।[২] তিন দেশ মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩,৪০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান এবং ৩৪০টির বেশি নেভাল অ্যাসেট – কাগজ কলমে এটি নিঃসন্দেহে একটি ফরমিডেবল সামরিক জোট।[৩] কিন্তু সংখ্যা আর সমন্বিত জোটের প্রকৃত কার্যকারিতার মধ্যে ফারাক বিস্তর।

 

ন্যাটোর শক্তি কেবল সেনা সংখ্যায় নয়; বরং ন্যাটোর আসল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে তিনটি মৌলিক উপাদানের ওপর:

 

১. একটি সেন্ট্রালাইজড ইন্টারঅ্যক্টেবল কমান্ড স্ট্রাকচার

২. দশকের পর দশক ধরে চলা যৌথ সামরিক মহড়া ও ইন্টেরোপ্যারাবিলিটি এবং

৩. একটি লিখিত, সুনির্দিষ্ট ও পরীক্ষিত অনুচ্ছেদ – ‘ন্যাটো আর্টিকেল ফাইভ’।

 

মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রে এই তিনটি উপাদানের একটিও এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়, পরীক্ষিতও নয়।

.

দুটি অমীমাংসিত প্রসঙ্গ এই সংশয়কে আরও জোরদার করে –

 

১।

প্রথমত, পারমাণবিক অস্পষ্টতা। সৌদি-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে সৌদি আরবও পাকিস্তানের পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে।[৪] কিন্তু ইসলামাবাদ আজ পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, এবং চুক্তির লিখিত বয়ানে নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’র কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এই অস্পষ্টতাকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:

 

এটি খোদ ‘ইসলামি ন্যাটো’ ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। ন্যাটোর ক্ষেত্রে – আর্টিকেল ৫ কার্যকর, কারণ এর প্রয়োগ ও পরিধি স্পষ্ট। কিন্তু মক্কা চুক্তির পারমাণবিক ডিটারেন্স বা রিটালিয়েশন নিয়ে স্বয়ং সদস্য রাষ্ট্রগুলোই নিশ্চিত নয়। ট্যাকটিকস এ – অনির্ধারিত প্রতিরোধ মূলত একটি দুর্বল প্রতিরোধ।

 

এটি একটি ইচ্ছাকৃত কূটনৈতিক কৌশল। পাকিস্তান সরাসরি নিশ্চিত করবে না, কারণ স্বীকার করলেই আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার প্রোলিফারেশন ফ্রেমওয়ার্ক থেকে তীব্র চাপ আসবে। আবার পাকিস্তান পুরোপুরি অস্বীকারও করবে না, কারণ অস্বীকার করলে রিয়াদের কাছে এই চুক্তির মূল আকর্ষণ হারাবে। ফলে এই অস্পষ্টতাই হবে তাদের ‘অ্যাডজাস্টেবল মডিফায়ার’ – যা শান্তির সময়ে অস্বীকৃত থাকবে, কিন্তু সংকটকালে প্রজেক্ট করা যাবে।

 

২।

দ্বিতীয়ত, মিশরের অনুপস্থিতি। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ রিয়াদ সম্মেলনে মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে চতুর্পাক্ষিক কাঠামোর যে রূপরেখা আলোচিত হয়েছিল, তা বাস্তব রূপ পায়নি।[৫] সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের সাথে কায়রোর ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং গ্রিস সাইপ্রাস ইস্যুতে তুরস্কের আঞ্চলিক ঝুঁকিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ভয়ই মিশরের পিছিয়ে আসার মূল কারণ।[৬]

 

২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধ তার বড় প্রমাণ। রিয়াদ যখন পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ সামরিক সহযোগিতা চেয়েছিল, পাকিস্তানের পার্লামেন্ট কৌশলগত জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাতে সোজাসাপ্টা অস্বীকৃতি জানায়।[৭] অর্থাৎ, রাজনৈতিক সংহতি বা জিওপলিটিক্যাল অ্যালায়েন্স ঘোষণা এক জিনিস, আর সেই অ্যাল্যাইয়েন্স’কে যুদ্ধক্ষেত্রের দায়বদ্ধতায় রূপান্তর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন হিসাব।

.

বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য ও কৌশলগত ট্রেড-অফ:

 

চুক্তি স্বাক্ষরের কিছুদিন পরেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি বিবেচনায়” বাংলাদেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক।[৮] বিপরীতে, ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সতর্ক ও সংক্ষিপ্ত – এমন এক সময়ে যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এমনিতেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। [৯]

 

ঢাকার এই আগ্রহের প্রেক্ষাপট একেবারেই শূন্য থেকে আসেনি। তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান:

 

২০২২ সাল থেকে বায়রাক্তার টিবি-২ (Bayraktar TB2) ড্রোন ক্রয় এবং দেশে তার যন্ত্রাংশ উৎপাদনের প্রক্রিয়া।[১০]

 

২০২৬ সালের জুনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের পর যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা কাঠামো চালু এবং ‘হিসার/সিপার’ (HISAR/SIPER) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে আলোচনা।[১০][১১]

 

বগুড়ায় তুর্কি প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদন কারখানার পরিকল্পনা এবং সেনাপ্রধানের আঙ্কারা সফর।[১১]

 

এগুলো সবই দ্বিপাক্ষিক লেভেলে একটি শক্তিশালী ‘মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনারশিপ’-এর ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু ঝুঁকিটা তৈরি হয় সেখানেই, যখন দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি হস্তান্তরকে একটি বহুপাক্ষিক ‘কালেক্টিভ ডিফেন্স প্যাক্ট’এর সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়।

.

আবেগের লেন্সে দেখলে বলা যায় – মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে ভারতের সাথে শক্তির একটি ভারসাম্য তৈরি হবে এবং দিল্লির একপাক্ষিক প্রভাব কমবে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্ন ওঠে: এই ভারসাম্য কি সত্যিই তৈরি হবে? বা কতটুকু তৈরি হবে?

 

ভারতের অবস্থান: মক্কা চুক্তির কাঠামো ভারতের সাথে কোনো সরাসরি সংঘাতমূলক অবস্থান তৈরি করে না। সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়ের সাথেই ভারতের বিশাল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত, রিয়াদের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার।

 

ব্লক পলিটিক্সের সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ যদি মনে করে এই জোটে ঢুকে সে একটি নিশ্চিত ‘ভারতবিরোধী আমব্রেলা’ পেয়ে যাবে, তবে তা হবে একটি কৌশলগত অপরিপক্ক চিন্তা ভাবনা। এটি ভারতকে সর্বোচ্চ এই বার্তা দেয় যে ঢাকা বিকল্প পথ বেছে নিতে সক্ষম। তবে এই মেসেজ দেয়ার জন্য মক্কা প্যাক্টের ফুল মেম্বারশিপ কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়।

.

আসল ঝুঁকি কোথায়?

 

হরমুজ প্রণালীর সংকট বা জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সংঘাতের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো নিরাপত্তা-সম্পর্ক নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের আসল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন:

 

১. মিয়ানমার সীমান্ত ও রোহিঙ্গা সংকট।

২. বঙ্গোপসাগরে বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তার।

৩. তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা।

৪. ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ।

৫. বিদেশ-নির্ভর অর্থনীতি।

৬. বিভিন্ন জিওপলিটিক্যাল ব্লকের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সমন্বয়।

৭. ভারতের দিক থেকে আদর্শিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক আগ্রাসনের হুমকি।

 

মক্কা চুক্তির সম্মিলিত কাঠামো আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, তিস্তার পানি এনে দেবে না, কিংবা কোনো বাণিজ্যিক শুল্কের চাপ থেকেও সুরক্ষা দেবে না। আর সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রেও এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। চুক্তির লিখিত বয়ানে কার্যকারিতার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনি সৌদি ও পাকিস্তানের অতীত রেকর্ডও (যা আমরা আগেই আলোচনা করেছি) লিখিত প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের সিদ্ধান্তের মধ্যে বড় ফারাক থাকার প্রমাণ দেয়।

 

বরং এই জোটে পূর্ণাঙ্গ অনুচ্ছেদ ৫ স্টাইলের সদস্য হলে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের এমন সব দূরবর্তী সংঘাতের আইনি দায়বদ্ধতায় জড়িয়ে পড়তে পারে, যেখানে তার নিজস্ব কোনো স্টেক নেই।

.

অনেকে এটিকে ভারতের মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী “ডিটারেন্স“ হিসেবে দেখতে চাইছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই ”ডিটারেন্স“ বাস্তবে কতটা শক্তিশালী, এবং ভারত আদৌ তা কতটা আমলে নেবে। কারণ ডিটারেন্সের শক্তি মিলিটারি অ্যাসেটের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয়না, বরং সেই শক্তি কতটুকু এবং কতদূর পর্যন্ত প্রজেক্ট করা সম্ভব তা দিয়ে নির্ধারিত হয়। আর এই জোটের ফোর্স প্রজেকশন এখনো স্পষ্ট নয়।

 

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ লাভ বা সম্পূর্ণ ক্ষতি – এমন সরল রেখা টানা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের অবস্থান হলো প্রাপ্তির তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি, অনির্ধারিত সামরিক দায়বদ্ধতা, দূরবর্তী সংঘাতে সংশ্লিষ্টতা, এবং একটি অপরীক্ষিত জোট কাঠামোর ওপর নির্ভরতা – বাংলাদেশের মত একটি দেশের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ন।

 

তাই ঢাকার জন্য সবচেয়ে বিচক্ষণ পথ হলো: তুরস্কের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা-প্রযুক্তি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, কিন্তু কোনো বহুপাক্ষিক সামরিক বাধ্যবাধকতায় সই না করে নিজের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।

.

শরয়ী আলোচনা:

 

কৌশলগত হিসাবের বাইরেও একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায় – যে তিন রাষ্ট্র “উম্মাহ’র নিরাপত্তা“ বয়ান তৈরি করছে, তাদের ভেতরের রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতা আসলে কী?

 

১. শাসনকাঠামোর রূপরেখা:

 

তিনটি রাষ্ট্রের একটিও কোনো ক্লাসিক্যাল বা সমন্বিত শরয়ী আইন দ্বারা পরিচালিত নয়। সৌদি আরব চলে রাজকীয় ফরমান ও ‘বেসিক ল অব গভর্নেন্স’-এর অধীনে। তুরস্ক একটি সাংবিধানিক সেক্যুলার প্রজাতন্ত্র। আর পাকিস্তান তার সংবিধানে ইসলামিক ধারা রাখা সত্ত্বেও মূলত অ্যাংলো-কমন-ল ভিত্তিক প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামো দিয়ে পরিচালিত।

 

২. বৈশ্বিক সেক্যুলার ও পশ্চিমা শক্তি এবং আদর্শিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা:

 

সৌদি আরবের আকাশ ও মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো মার্কিন গোয়েন্দা, স্যাটেলাইট ও ট্র্যাকিং নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। তুরস্ক স্বয়ং ১৯৫২ সাল থেকে ন্যাটোর পূর্ণাঙ্গ সদস্য। আর পাকিস্তান ২০২৪ সালে ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ বেলআউট প্যাকেজের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে নিজের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে আন্তর্জাতিক রূপরেখার কাছে ন্যস্ত করেছে।[১২] প্রতিটি রাষ্ট্রই বিশ্বায়িত পুঁজিবাদী ও পশ্চিমা সামরিক-আর্থিক কাঠামোর সাথে শক্তভাবে বাঁধা।

 

৩. মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সহিংসতা:

 

সৌদি আরব: জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ইয়েমেন অভিযানে ৩ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বড় একটি অংশ বেসামরিক মুসলিম নাগরিক।[১৩] এমনকি জঘন্য অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ড এর মত আলোচনার সাথেও সৌদির নাম এখনো জড়িয়ে আছে।

 

তুরস্ক: তুরস্ক নিজেই ১৯৫২ সাল থেকে ন্যাটোর সদস্য। কি পরিহাস – একটি ন্যাটো-রাষ্ট্র নিজেই এখন কথিত ‘ইসলামি ন্যাটো’র সহনির্মাতা, যে ন্যাটো বিশ্ব জুড়ে “ওয়ার অন টেরর“ ক্যাম্পেইনের সৈন্য হয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যা করেছে!

 

পাকিস্তান: ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (আজকের বাংলাদেশে) পরিচালিত ভয়াবহ গণহত্যা,[১৫] বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীর্ঘ নথি,[১৪] এবং সম্প্রতি (২০২৫) আফগান সীমান্ত সংঘর্ষে ৮৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা – যা জাতিসংঘের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ।[১৬]

.

শেষ কথা:

 

মক্কা প্যাক্ট’কে রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার একটি চিরাচরিত কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু একে ‘ইসলামি ন্যাটো’ কিংবা মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখা এক ধরনের রাজনৈতিক সরলীকরণ এবং প্রতারণা!

 

তিনটি রাষ্ট্র উম্মাহর সংহতির ভাষায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করছে, অথচ কেউই নিজ ভূখণ্ডে ইসলামি শাসন কাঠামো অনুসরণ করে না, তিনটিই বিভিন্ন মাত্রায় পশ্চিমা সামরিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে বাঁধা, এবং তিনটিরই রয়েছে নিজ নিজ মুসলিম জনগোষ্ঠী বা প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার নথিভুক্ত রেকর্ড।

 

এই সমস্ত বাস্তবতার আলোকে মক্কা প্যাক্ট আমাদের জন্য কতটুকু লাভের আর কতটুকু ক্ষতির তা বিবেচনার ভার আপনাদের উপরেই রইল, তবে মক্কা চুক্তি যে কোন ভাবেই “ইসলামিক ন্যাটো“ নয় তা স্পষ্ট করতে আমরা কোন কার্পন্য করিনি।

–

পরে পড়ার জন্য পোস্টটি সেভ করুন।

অন্যদের জানানোর জন্য শেয়ার করুন।

ভালো-মন্দ জানানোর জন্য কমেন্ট করুন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদগাহ মডেল হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল থেকে অসহায় রোগীদের ১১.৮১ লাখ টাকা সহায়তা।

১

রুমায় স্বজাতি কর্তৃক ধ/র্ষণের শিকার ১৫ বছরের মারমা শিশু। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাড়ি ছাড়া পরিবার।

২

আমার দেখা শ্রীলংকা: প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও বিস্ময়ের এক অপূর্ব দ্বীপ

৩

বিয়ের আগে যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান: ধর্মান্তরিত মুসলিমদের ক্ষেত্রেও দ্বীন ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ

৪

আলীকদমের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক সংকট

৫

চিকিৎসার বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগ নাকচ করলেন ডা. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী

৬

পশ্চিমারা কেন ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে?

৭

প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আলীকদমে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

৮

ইসলাম গ্রহণের পর হুমকির অভিযোগ, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

৯

মক্কা চুক্তি: ‘ইসলামি ন্যাটো’ নয়, ঢাকার জন্য নিশ্চিত নিরাপত্তাও নয়!

১০

আলীকদমের উন্নয়ন নিয়ে বিতর্ক: রিমনের কর্মের মূল্যায়ন হোক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে

১১

প্রাচীন আরাকানে মুসলিম সভ্যতা: ইতিহাস, দলিল ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা

১২

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে বিবৃতি দিয়েছে এআরএসএ

১৩

আইভরি কোস্টে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর ২০তম শাহাদাত বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

১৪

বাংলাদেশে কখন ইসলাম প্রচার শুরু হয়?

১৫

ভারতীয় প্রভাবমুক্ত ও সমমর্যাদার সম্পর্ক: বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ ও করণী

১৬

অশান্ত পাহাড়ে শান্তির পথ: নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নে সরকারের দায়িত্ব

১৭

এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ, থানায় জিডি

১৮

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈনদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার অমিত শাহের

১৯

আলীকদমে টমটমকে সাইড দিতে গিয়ে খাদে মাতামুহুরী পরিবহনের বাস

২০