রুমায় স্বজাতি কর্তৃক ধ/র্ষণের শিকার ১৫ বছরের মারমা শিশু। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাড়ি ছাড়া পরিবার।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তংমক পাড়ায় এক কিশোরীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করায় কিশোরীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পরিবারটি নিজ বাড়ি ছেড়ে জুম ঘরে আশ্রয় নিয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়স ১৫ বছর। তার বাবা মংসিংনু মার্মা। গত এপ্রিল মাসে এক সন্ধ্যায় কিশোরী বাড়িতে একা অবস্থানকালে একই পাড়ার বাসিন্দা ক্য হ্লা চিং মার্মার ছেলে ক্য সিংনু মার্মা তাকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
প্রথমবার ধর্ষণের পরবর্তী সময়ে ধ/র্ষ/ক ক্য সিং নু মার্মা তার বন্ধু উহাইমং মার্মা ও সিংহ্লা মার্মাকে বিষয়টি জানান। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই দুই যুবক কিশোরীকে সন্ধ্যায় বাড়িতে একা পেয়ে আবারও ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে হ*ত্যার হু*মকি দেওয়া হয়।
এরপর উহাইমং মার্মা ও সিংহ্লা মার্মা বিষয়টি তাদের আরেক বন্ধু উশৈনু মার্মাকে জানান। এর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পর তংমক পাড়ার বাসিন্দা মংচহ্লা মার্মার ছেলে উশৈনু মার্মা(যিনি বিবাহিত) কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে ৩য় বার ধর্ষণ করেন।
পরবর্তী সময়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। প্রায় তিন মাস পর শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে তিনি পাড়ার এক ধাত্রীর কাছে যান। সেখানে গর্ভধারণের বিষয়টি জানতে পেরে ভয়ে মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায় কিশোরী।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সিংহ্লা মার্মা গর্ভপাতের ওষুধ কিনে কিশোরীকে তা সেবনে বাধ্য করেন। ওষুধ সেবনের পর প্রায় চার মাসের গর্ভপাত ঘটে এবং শিশুটু অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বান্দরবান শহরে নিয়ে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর শিশুটির পরিবার প্রতিবাদের চেষ্টা করলে হ*ত্যার হু*মকি দেওয়া হয় তাদের।
পরিবারের দাবি, শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান সদর থেকে নিজ বাড়ি তংমক পাড়ায় ফিরে আসার পর অভিযুক্তদের গতিবিধি ও আচরণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে থেকে পালিয়ে পাহাড়ের একটি জুম ঘরে আশ্রয় নেন। পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুটির পরিবার রুমা থানায় গিয়েছেন এবং জিডির প্রস্ততি চলছে।
#ChittagongHillTracts
#ruma #bandarban
মন্তব্য করুন