নিজস্ব প্রতিবেদক | নেশন টুডে২৪
গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় একটি জুতা তৈরির কারখানায় পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা মো. ইলিয়াস (৪০)-কে ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এর আগে ৬ এপ্রিল সংঘটিত ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি ও তাঁর সহযোগী আরিফ আল খোকন (৪০) গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের নাওজোড় এলাকার প্যাসিফিক ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এ দীর্ঘদিন ধরে জুতা উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে প্রায় আড়াই শতাধিক শ্রমিক বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অসন্তোষ দেখা দেয়। ঈদের আগে কয়েক দফা শ্রমিক বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ‘পুলিশ’ স্টিকার লাগিয়ে মো. ইলিয়াস ও আরিফ আল খোকন নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে কারখানায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের পরিচয়পত্র চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকারযুক্ত ব্যক্তিগত গাড়িটি জব্দ করে।
এ ঘটনায় কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা শেখ পলাশ আহমেদ বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান অভিযোগ করেন, চলমান শিল্প সংকটকে কেন্দ্র করে তাঁদের হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিল্প পুলিশের তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, জব্দ করা গাড়িটি তাঁর নয় এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দলীয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বান্দরবান জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও আলীকদম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস মিয়াকে জালিয়াতি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
এছাড়া, ব্যবহারকারীর দেওয়া নথিতে দেখা যায়, গাজীপুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার কপি ও সংশ্লিষ্ট আইনি নথিও রয়েছে, যেখানে পুলিশ পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য উল্লেখ আছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হচ্ছে, গ্রেপ্তারের পর মো. ইলিয়াস পরে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। তবে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যে উল্লেখিত “প্রায় ৫২ লাখ টাকার বিনিময়ে জামিন” সংক্রান্ত দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ দাবিটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন