নেই রসনার লাগাম, বাড়ছে মরণব্যাধি: বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও আমাদের দায়
ডেস্ক রিপোর্ট, নেশন টুডে২৪:
লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকল কিংবা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে প্রতিদিন অসংখ্য তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। চারপাশের এই ভয়াবহ চিত্র দেখার পরও দেশের মানুষের মাঝে কমেনি জাঙ্কফুড, ভাজাপোড়া, কোমল পানীয়, ধূমপান কিংবা মাদক সেবনের মারাত্মক প্রবণতা।
বর্তমানে শুধু রাজধানী কিংবা বড় নগরগুলোতেই নয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের দোকান। ঘরের পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন বাইরের মুখরোচক খাবারই বেশি প্রিয় হয়ে উঠছে।
একসময় ছুটির দিনে মানুষের বিনোদনের মাধ্যম ছিল প্রকৃতির কাছে যাওয়া—গাছপালা, নদী কিংবা সমুদ্রের সান্নিধ্য পাওয়া। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিনোদনের সেই জায়গা দখল করেছে রেস্টুরেন্ট সংস্কৃতি। এখন ছুটির দিন মানেই দলবেঁধে রেস্টুরেন্টে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।
বাণিজ্যিক এই ফাঁদ কেবল রেস্টুরেন্টেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে পাড়ার সাধারণ মুদি বা কনফেকশনারি দোকানেও। খেয়াল করলে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানের ঠিক সামনেই সাজিয়ে রাখা হয় কোমল পানীয়র ফ্রিজ আর হাতের নাগালেই ঝুলিয়ে রাখা হয় চিপসের সারি সারি প্যাকেট। এই পণ্যগুলোর বিক্রি এত বেশি যে, ক্রেতারা যেন সহজেই তা লুফে নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করে রাখা হয়।
এই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের করুণ ফল আমরা প্রতি মুহূর্তে প্রত্যক্ষ করছি। দেশে বর্তমানে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিসের জন্য সহজে কোনো স্লট খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমান প্রজন্ম ফল খেতে অনীহা প্রকাশ করে। আর যারাও বা খায়, তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বিদেশি ফল। অথচ আমাদের দেশি মৌসুমি ফলমূল অনেক বেশি সাশ্রয়ী, পুষ্টিকর এবং বিদেশি ফলের তুলনায় অনেক বেশি টাটকা ও কেমিক্যালমুক্ত। ক্ষতিকর জেনেও পুরো একটি জনপদের মানুষ প্রতিনিয়ত এই ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও নাগরিকের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য-পানীয় নিশ্চিত করা এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে কেবল সরকারি ব্যবস্থার দিকে চেয়ে না থেকে, এই সংকট থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।
আমাদের এই মানব শরীর প্রকৃতির এক অমূল্য আমানত। এই আমানতের সঠিক যত্ন নেয়া এবং নিজেকে সুস্থ রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। রসনাকে সংযত করে, মুখরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাসের মাধ্যমেই কেবল একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
আপনার সংবাদের মূল ভাবনা ও সামাজিক বার্তাটিকে অক্ষুণ্ন রেখে এটি সাজানো হয়েছে। ‘নেশন টুডে২৪’-এর জন্য এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পাদকীয় বা বিশেষ প্রতিবেদন হতে পারে।
মন্তব্য করুন