আলীকদমের উন্নয়ন নিয়ে বিতর্ক: রিমনের কর্মের মূল্যায়ন হোক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম রিমনের দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা সমালোচনা। তবে কোনো জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্মমূল্যায়ন হওয়া উচিত আবেগ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা প্রচারণার ভিত্তিতে নয়; বরং প্রকল্পের নথি, বাস্তবায়নের তথ্য, ব্যয়ের হিসাব এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে।
আলীকদমের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সামাজিক প্রয়োজনকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে তাঁর উদ্যোগ ছিল—এমন দাবি রয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কালভার্ট, সড়কসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হয়েছে—এসব তথ্যই হতে পারে প্রকৃত মূল্যায়নের ভিত্তি।
সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। তবে অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় বা প্রশাসনিক অসংগতি থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একইভাবে, প্রশংসার ক্ষেত্রেও বাস্তব অর্জন ও নথিভিত্তিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
আলীকদমের উন্নয়ন-ইতিহাস মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বিভিন্ন সময়ে জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালন করা প্রতিনিধিদের সময়ে গৃহীত প্রকল্প, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং জনগণের প্রাপ্ত সুফল—সবকিছুরই নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। একজনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অন্যদের কর্মপরম্পরা বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ভুল বা ত্রুটি থাকলে সংশোধনের দাবি থাকবে, অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, আর সাফল্য থাকলে তার স্বীকৃতিও দিতে হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রমাণহীন অভিযোগ কোনোভাবেই গঠনমূলক জনআলোচনার বিকল্প হতে পারে না।
শেষ পর্যন্ত সময়ই মানুষের কর্মের প্রকৃত মূল্যায়ন করে। তাই মোঃ সাইফুল ইসলাম রিমনের কর্মযজ্ঞ নিয়ে প্রশংসা কিংবা সমালোচনা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজন তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণ।
আলীকদমের উন্নয়নের প্রশ্নে ব্যক্তি নয়, কর্মই হোক আলোচনার কেন্দ্র; অপপ্রচার নয়, তথ্য; বিদ্বেষ নয়, যুক্তি; আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকুক জনগণের স্বার্থ ও জবাবদিহি।
মন্তব্য করুন