১৩ লাখ ফলোয়ার, শেষযাত্রায় মাত্র কয়েকজন—ডিজিটাল জনপ্রিয়তার নির্মম বাস্তবতা
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা, লাখ লাখ অনুসারী ও প্রতিটি কনটেন্টে অসংখ্য ভিউ—তবুও জীবনের শেষযাত্রায় পাশে ছিলেন না সেই ভার্চুয়াল অনুসারীদের কেউ। পাকিস্তানের টিকটকার আয়েশা গিলমানের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের উপস্থিতির একটি দাবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জীবিত অবস্থায় আয়েশার কনটেন্ট ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে। নিয়মিত কনটেন্টে লাইক, কমেন্ট ও ভিউয়ের মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় একটি অনলাইন দর্শকগোষ্ঠী।
কিন্তু মৃত্যুর পরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জানাজা ও শেষযাত্রায় পরিবার ও ঘনিষ্ঠজন ছাড়া তেমন মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে এ-সংক্রান্ত দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত—তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবি হিসেবে দেখা উচিত।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা কি বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও মানবিক বন্ধনের বিকল্প হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের ফলোয়াররা অনেক সময় মূলত কনটেন্টের দর্শক; তাঁদের সঙ্গে বাস্তব জীবনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা আবশ্যক নয়। ফলে লাখ লাখ ফলোয়ার থাকা মানেই বাস্তব জীবনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এখন লাইক, ভিউ ও ফলোয়ারের সংখ্যাকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দেখছে। অথচ বাস্তব জীবনের পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী ও মানবিক সম্পর্কই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আয়েশা গিলমানকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাটি তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের মূল্য জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে।
স্ক্রিনের ওপারের হাজারো ‘লাইক’ হয়তো মুহূর্তের আনন্দ দিতে পারে; কিন্তু জীবনের কঠিন সময়ে প্রয়োজন হয় এমন মানুষ, যারা সত্যিই পাশে দাঁড়ায়।
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন