আরাকান আর্মির জোরপূর্বক ধর্মান্তর: ইসলাম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নারীদের, হিজাব ও সালাত নিষিদ্ধ, মসজিদ দখল করে বানানো হয়েছে ULA/AA অফিস
.
রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী আরকান আর্মির নিপীড়ন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ ও বাস্তুচ্যুতির পর এবার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামি জীবনব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত করার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে।
আরাকানের বুথিডাং, রাথিডং, মংডু এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো হচ্ছে নতুন নিপীড়নের এক নতুন তাণ্ডব। নারীদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে ক্যাম্পে আটকে রাখা, তাদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ, ইসলাম ত্যাগ করতে বাধ্য করা, হিজাব ও সালাত পালনে বাধা দেওয়া এবং মসজিদ দখল করে ULA/AA-এর অফিসে রূপান্তরের মতো ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসছে।
এ যেন শুধু রোহিঙ্গাদের ভূমি থেকে উৎখাতের চেষ্টা নয়; বরং তাদের ধর্ম, পরিচয় ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এক ভয়ংকর পরিকল্পিত অভিযান।
.
(০১) নারীদের ক্যাম্পে আটকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর
বুথিডাং, রাথিডং, মংডু এবং আরাকানের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম নারী ও যুবতীদের জোর করে তুলে নিয়ে সন্ত্রাসী আরকান আর্মির বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে। সেখানে তাদের ওপর চলছে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করতে। যারা ধর্ম পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের ইসলাম পালন থেকেও বিরত থাকতে বলা হচ্ছে এবং নাস্তিক হিসেবে থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
.
আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো, তথাকথিত “সামাজিক সম্প্রীতি”, “প্রশিক্ষণ” কিংবা “ক্যাম্পেইন”-এর নামে রোহিঙ্গা মুসলিম কিশোরীদের ঘর থেকে জোর পূর্বক অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে রাখাইন পুরুষদের সঙ্গে একই ক্যাম্প বা তাঁবুতে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে যেখানে রোহিঙ্গা কিশোরীদেরকে ধর্ষণ ও তাদের ব্রেইনওয়াশ করে ধর্মীয় পরিচয় ধ্বংস করা হচ্ছে।
.
(০২) ইসলাম চর্চা নিষিদ্ধ, হিজাব পরলেই নির্যাতন
যারা ইসলাম অনুসরণ করতে চাইছে, সালাত পড়তে চাইছে, বা হিজাব পরতে চাইছে, তাদের ওপর চলছে নির্মম নির্যাতন। অনেককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেককে হত্যা করা হচ্ছে শুধুমাত্র ইসলাম পালনের অপরাধে।
হিজাব পরা মেয়েদের ক্যাম্পে আটকে রেখে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ইসলাম ত্যাগ না করলে তাদের খাবার বন্ধ, পরিবারের সঙ্গে দেখা বন্ধ, এমনকি হত্যাও করা হচ্ছে।
.
(০৩) মসজিদ দখল করে ULA/AA পার্টি অফিস
একদিকে নারী নির্যাতন, অন্যদিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মসজিদগুলো জোরপূর্বক দখল করে সেগুলোকে ULA/AA-এর পার্টি অফিসে রূপান্তর করা হচ্ছে। ধর্মীয় স্থাপনাকে সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির ঘাঁটিতে পরিণত করা হচ্ছে।
.
মুসলিমদের ইবাদতের অধিকার কেড়ে নিয়ে সেই মসজিদে বসছে আরকান আর্মির প্রশাসন। যারা মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে, নির্বাসিত করা হচ্ছে।
.
(০৪) ৯ আগস্ট: আল্লাহর ঘর মসজিদকে ULA/AA পার্টি অফিসে রূপান্তর
৯ আগস্ট বুথিডাংয়ের জামে মসজিদে আরকান আর্মি মিডিয়ার সামনে “পরিচ্ছন্নতা অভিযান” দেখালো। ক্যামেরার সামনে মসজিদ পরিষ্কারের নাটক সাজালো, হাসিমুখে ছবি তুলল।
কিন্তু ওই একই দিনে, ওই একই মসজিদে তারা ULA/AA-এর পার্টি অফিস বসিয়ে দিল। আল্লাহর ঘর মসজিদকে ULA এর রাজনৈতিক সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হলো।
.
রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর আরকান আর্মির এই নিপীড়ন এখন আর শুধু হত্যা, নির্যাতন কিংবা বাস্তুচ্যুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টাও চলছে। নারীদের ক্যাম্পে আটকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর, ইসলাম চর্চায় বাধা, হিজাব ও সালাত নিষিদ্ধ করা এবং মসজিদ দখল করে ULA/AA-এর পার্টি অফিসে রূপান্তর সবকিছু একই নিপীড়নের ধারাবাহিকতা।
.
একদিকে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর চলছে নির্যাতন ও ধর্ষণ, অন্যদিকে তাদের ইসলামি পরিচয় কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই মসজিদগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছিল আজ সেগুলো আরাকান আর্মির সামরিক ও রাজনৈতিক অফিসে পরিণত হয়েছে। যেখানে একসময় আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতো, আজ সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
.
আজ যদি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্ম, পরিচয় ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এই তাণ্ডব বন্ধ না হলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন