আলীকদমে ছাত্রজনতার ক্ষোভ: রামিছা-আছিয়া হত্যার দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট | নেশন টুডে২৪ নিউজ
আলীকদম (বান্দরবান): “রামিছার রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”—এমনই সব তপ্ত স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে বান্দরবানের আলীকদম বাজার এলাকা। দেশব্যাপী একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং নিহত শিশু রামিছা ও আছিয়াসহ সকল ঘটনার জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছে আলীকদমের সচেতন নাগরিক ও ছাত্রজনতা।
শুক্রবার (২২ মে) জুমা’আর নামাজ শেষে আলীকদম বাজার প্রাঙ্গণে এক বিশাল প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র ক্ষোভ আর বিচারের দাবিতে মুখর এই মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
### অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার পেছনে দীর্ঘসূত্রতা: বক্তা
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন:
* **জাতি আজ স্তম্ভিত:** রামিছার মতো নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশুদের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
* **বিচারের দীর্ঘসূত্রতা:** একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও সময়মতো বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমার বদলে সাধারণ মানুষের মাঝে ভয় ও ক্ষোভ বাড়ছে।
* **বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়:** বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, রামিছার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এর আগে শিশু আছিয়াসহ আরও অনেক শিশু একইভাবে নৃশংসতার শিকার হয়েছে।
> “দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই আজ অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন সংস্কার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরপশুদের অল্প সময়ের মধ্যে ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
> — *মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ক্ষুব্ধ বক্তা*
>
### রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতা ও জনগণের আস্থা
মানববন্ধন থেকে রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত ছাত্রজনতা বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। রামিছা বা আছিয়ার মতো ঘটনার যদি দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা না যায়, তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি উঠে যাবে।
### নেশন টুডে২৪ নিউজ-এর বরাতে মানববন্ধনের মূল দাবিগুলো:
১. শিশু রামিছা ও আছিয়াসহ সকল ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার।
২. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
৩. অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনের শেষভাগে উপস্থিত জনতা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন