আলীকদমে রাতের আঁধারে পাহাড়ের টিলা কাটা ও সরকারি গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ
**নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক ||**
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি পাহাড়ের টিলা কেটে মাটি অপসারণ এবং সড়কের পাশের সরকারি গাছ উপড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ জুন (২০২৬) রাতে উপজেলার পানবাজার-কলারঝিরি সড়কের আবুমাঝি পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আবুমাঝি পাড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত কবির হাজির মালিকানাধীন একটি পাহাড়ি টিলা থেকে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্কেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এ সময় পাহাড় কাটার পাশাপাশি সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি মূল্যবান সরকারি গাছও উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। **একই সাথে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে কাটা এই প্রতি গাড়ি মাটির দাম ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।**
ঘটনার পর টিলার মালিকপক্ষের ছেলে মনির হোসেন বাদী হয়ে আলীকদম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পাহাড়ের টিলার একটি বড় অংশ ভেকু দিয়ে কেটে সাবাড় করা হয়েছে এবং উপড়ে ফেলা সরকারি গাছের অবশিষ্টাংশ দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই পড়ে রয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসের এমন নির্মম চিত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত স্ক্যাভেটর (খননযন্ত্র) মালিক ইলিয়াস সিকদার বলেন, *“আমি আবুমাঝি পাড়ার সর্দার মাহাবুবুল আলমের কাছে গাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলাম। তিনি গাড়িটি কোথায় এবং কী কাজে ব্যবহার করেছেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”*
এদিকে অভিযুক্ত আবুমাঝি পাড়ার সর্দার মাহাবুবুল আলম পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে নেশন টুডে২৪-কে জানান, স্থানীয় একটি মসজিদের গাইডওয়ালের মাটি ভরাট করার জন্য তিনি উক্ত টিলা থেকে মাটি নিয়েছেন। তবে জায়গাটি নিজের দাবি করে তিনি বলেন, *“টিলাটি আমার শ্বশুরের মালিকানাধীন, তাই সেখান থেকে মাটি নেওয়া হয়েছে।”* তবে প্রতি গাড়ি মাটি ৩০০ টাকায় বিক্রির বাণিজ্যিক অভিযোগ এবং সড়কের পাশের সরকারি গাছ উপড়ে ফেলার গুরুতর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ জোরালো দাবি জানিয়েছে যে, টিলাটি সম্পূর্ণ তাদের মালিকানাধীন এবং তাদের কোনো অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে ব্যবসা করা হয়েছে। সেই সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পদ (সরকারি গাছ) ধ্বংসের ঘটনাটিরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি সম্পদ নষ্ট, মাটি কেনাবেচা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কাটার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন