মায়ের বুকের দুধ কম খাওয়ানোই শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ: সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা
স্টাফ রিপোর্টার, নেশন টুডে২৪ ঢাকা: দেশে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মায়ের বুকের দুধ কম খাওয়ানোকে চিহ্নিত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থান: আজকের সংক্রমণ, আগামী দিনের ঝুঁকি’ শীর্ষক এক কেন্দ্রীয় সেমিনারে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৩ শতাংশ মা-ই শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ খাওয়ান না। মায়ের বুকের দুধে থাকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শিশুরা সহজেই হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। সেমিনারে চিকিৎসকরা শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন।
নেপথ্যে অপুষ্টি ও পারিবারিক অবহেলা: গ্রামীণ চিত্র
চিকিৎসকদের এই উদ্বেগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় গ্রামীণ পরিবারগুলোর মায়েদের বুকের দুধ কম হওয়ার পেছনে কিছু গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও উঠে এসেছে। দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর একটি বড় অংশের মায়েরা চরম অপুষ্টিতে ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দরিদ্রতার কারণে অথবা পারিবারিক অসচেতনতা ও অবহেলার শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা বা প্রসূতি মায়েরা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হন।
এমনকি কিছু কিছু পরিবারে পুত্রবধূদের ওপর মানসিক নির্যাতন বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ (ম্যাল-ট্রিটমেন্ট) দেওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে, যা সরাসরি একজন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, মায়ের মানসিক সুস্থতা এবং সঠিক পুষ্টির সাথে স্তন্যদানের (Breastfeeding) সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মানসিক অশান্তি ও পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক মা চাইলেও সন্তানকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ দিতে পারছেন না।
আধুনিক জীবনযাত্রা ও কর্মজীবী মায়েদের চ্যালেঞ্জ
অন্য দিকে, শহরাঞ্চল বা আধুনিক জীবনযাত্রায় দিন যত এগোচ্ছে, নারীদের ব্রেস্ট ফিডিং বা স্তন্যদানের সক্ষমতা ও আগ্রহে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার বা ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের অভাব এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে তারা শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ বা সুযোগ হারাচ্ছেন। বিকল্প হিসেবে গুঁড়ো দুধের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ফলেও শিশুরা প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের আহ্বান
সেমিনারে চিকিৎসকরা বলেন, হামের ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বরং মায়ের সঠিক পুষ্টি ও সচেতনতা সবার আগে জরুরি। সেই সাথে পরিবারে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং তাকে একটি সুন্দর ও চাপমুক্ত পরিবেশ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে প্রসূতি মায়ের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানি
য়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন