স্লিপ অ্যাপনিয়া কী? নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস বন্ধ হলে সতর্ক হোন
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) হলো একটি গুরুতর ঘুমের সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় একজন মানুষের শ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যায় বা অগভীর হয়ে যায়। প্রতিবার শ্বাস বন্ধ হওয়ার পর মস্তিষ্ক শরীরকে সতর্ক করে, ফলে ঘুমের গভীরতা নষ্ট হয় এবং আবার শ্বাস-প্রশ্বাস শুরু হয়। এক রাতে এ ঘটনা বহুবার ঘটতে পারে।
প্রধানত দুই ধরনের স্লিপ অ্যাপনিয়া
১. অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (OSA):
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ঘুমের সময় গলার পেশি অতিরিক্ত শিথিল হয়ে শ্বাসনালি আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
২. সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া (CSA):
এ ক্ষেত্রে শ্বাসনালি বন্ধ হওয়া মূল সমস্যা নয়। বরং মস্তিষ্ক থেকে শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত ঠিকমতো না আসার কারণে শ্বাস বন্ধ হতে পারে।
⚠️ সাধারণ লক্ষণ
– রাতে জোরে নাক ডাকা
– ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
– হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে জেগে ওঠা
– ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস বা গ্যাস্পিং
– দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
– সকালে মাথাব্যথা
– মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
– ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগা
– মেজাজ খিটখিটে হওয়া
– রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া
শুধু নাক ডাকলেই স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়েছে—এমন নয়। তবে জোরে নাক ডাকার সঙ্গে যদি ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁসফাঁস করা বা দিনের অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
🧩 কারা বেশি ঝুঁকিতে?
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ঘাড়ের পরিধি বেশি হওয়া, নাক বা গলার শ্বাসনালিতে বাধা, বড় টনসিল/অ্যাডিনয়েড, বয়স বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ইতিহাসের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিৎ হয়ে ঘুমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
❤️ চিকিৎসা না করলে কী হতে পারে?
স্লিপ অ্যাপনিয়াকে শুধু নাক ডাকার সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, হৃদ্স্পন্দনের অনিয়ম এবং দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে গাড়ি বা ভারী যন্ত্র চালানোর সময় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
🔬 কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
সন্দেহ হলে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজনে Sleep Study বা Polysomnography করা হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে Home Sleep Apnea Test করা যায়।
এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, হৃদ্স্পন্দনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।
💊 চিকিৎসা কী?
রোগের ধরন ও তীব্রতার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন কমানো উপকারী হতে পারে।
ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন: নিয়মিত ঘুম, চিৎ হয়ে না ঘুমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের অবস্থান পরিবর্তন করা কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপকারী।
CPAP: মাঝারি থেকে গুরুতর অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় CPAP বহুল ব্যবহৃত কার্যকর চিকিৎসা। মাস্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট চাপের বাতাস দিয়ে ঘুমের সময় শ্বাসনালি খোলা রাখতে সাহায্য করে।
Oral Appliance: নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ মুখের যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
সার্জারি: নাক, গলা বা শ্বাসনালির নির্দিষ্ট গঠনগত সমস্যা থাকলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হয়।
🚨 কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হওয়া, প্রচণ্ড হাঁসফাঁস করা, দিনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুমিয়ে পড়া অথবা গাড়ি চালানোর সময় ঘুম পেয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
🩺 বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
ডাঃ মোঃ আব্দুর রহমান চৌধুরী
এমবিবিএস (ঢাকা), পিজিটি—মেডিসিন
ডিএমইউ (আল্ট্রা)
Advanced Cardiovascular Life Support (ACLS)
American Heart Association
চেম্বার: ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল
মনে রাখুন: স্লিপ অ্যাপনিয়া শুধু নাক ডাকার সমস্যা নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে ঘুমের মান, দিনের কর্মক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করা সম্ভব।
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন