নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরফাত। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও একাধিকবার কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে তাকে ঘুরানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরফাত জানান, সকালেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান তিনি। অনলাইনে আবেদনসহ সব কাগজপত্র প্রস্তুত থাকার পরও প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজ জমা দেওয়ার সুযোগ পান। পরে তার ফাইল খাগড়াছড়ির ঠিকানা সংক্রান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে পাঠানো হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বাড়ির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর ঠিকানা নিয়ে আপত্তি দূর হয়। এরপর তিনি পেশা হিসেবে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত—এমন তথ্য দিলে তার কাছে পেশার প্রমাণপত্র চাওয়া হয়। তিনি নিজের প্রকাশিত বইয়ের সরকারি লাইসেন্স ও বই বিক্রির রসিদ দেখান। স্ক্যান করার পর সংশ্লিষ্ট নথিও যাচাই করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর তার কাছে চাকরির ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি চাকরিজীবী নন; লেখালেখি করেন এবং তার বই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রি হয়। এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর আবারও ফাইল যাচাই করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ইয়াসিন আরফাতের অভিযোগ, পরবর্তীতে তার মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং পরে কাবিননামার মূল কপি চাওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাসপোর্ট আবেদনের সময় মা-বাবার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা কিংবা নিজের মূল কাবিননামা জমা দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত।
একপর্যায়ে কাবিননামার মূল কপি না থাকায় তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর তাকে পুনরায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়। দিনের কার্যক্রমের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেদিন তার পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
মির্জা ইয়াসিন আরফাত বলেন, আশপাশে থাকা অন্যান্য আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, অনেকেই কাবিননামার ফটোকপি জমা দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বারবার হয়রানি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যেন অহেতুক হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, লাইসেন্স, সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় মানুষের ভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরফাত বলেন, “শুধু চাইছি আল্লাহর ঘরে যেতে। কিন্তু একজন মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার হলে কীভাবে সে স্বাভাবিক থাকবে?”
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র নিয়ে আবারও পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার চেষ্টা করবেন। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার নসিব হলে সে আশা পূরণ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন