৭ সন্তানের পিতাকে ওজু অবস্থায় ঝাঁঝরা করল খুনি রেজুয়ান: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও ও আরকান আর্মি কানেকশনের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলীতে নুরুল কবির (৩৫) নামের এক যুবককে ওজু করার সময় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। নিহত নুরুল কবিরের পরিবারের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’ (আরএসও)-এর সদস্যরা তাহাজ্জুদের নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে এই হত্যাকাণ্ড চালায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরুল কবিরের সাতটি সন্তান রয়েছে। সাত সন্তানকে রেখে ঘরের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন গভীর শোক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নুরুল কবিরের পরিবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ‘নেশন টুডে২৪’-এর কাছে নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাই।
খুনি রেজুয়ানের চাঞ্চল্যকর অতীত ও পূর্ববর্তী হত্যাকাণ্ডসমূহ
তদন্ত ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আরএসও-এর ‘হাদ্দাম’ গ্রুপের সক্রিয় সন্ত্রাসী মো. রেজুওয়ান ওরফে রিজওয়ান। তার বাবার নাম সলিম এবং সে মূলত ক্যাম্প-১২ (বালুখালী), ব্লক-এফ/১০-এর বাসিন্দা (হেড মাঝি ইসমাইল)। বর্তমানে সে ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে বেপরোয়াভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজুয়ানের হাতে এটাই প্রথম হত্যাকাণ্ড নয়। এর আগেও একাধিক হাই-প্রোফাইল খুনের সাথে সে সরাসরি জড়িত ছিল:
২০২৪ সালের জানুয়ারি: ক্যাম্পের সম্মানিত আলেম হাফিজ ইমরান হুজুরকে গুলি করে হত্যা করে এই রেজুয়ান।
পরবর্তী হত্যাকাণ্ড: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আব্দুল হালিম গ্রুপের নেতা আব্দুল হালিমকে হত্যা করে।
অন্যান্য অপরাধ: ক্যাম্পের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ছোট ভাইকেও নির্মমভাবে হত্যা করে সে।
### আরএসও-এর শীর্ষ নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান সংযোগ
অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসী সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে মাস্টার আইয়ুব, মাস্টার নুরু সালাম এবং ডাক্তার ইউনুস। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আরএসও-এর এই শীর্ষ নেতা মাস্টার আইয়ুবের সাথে মিয়ানমারের আরকান আর্মির (AA) গভীর গোপন যোগাযোগ ও আতাঁত রয়েছে।
মাস্টার আইয়ুবের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় ধরনের মাদক ও অস্ত্র কারবার পরিচালনা করছে। ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে তারা মাদক পাচার ও চাঁদাবাজির এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
### থমথমে ক্যাম্প, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জামতলী ও ১১ নম্বর ক্যাম্পসহ আশেপাশের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নেশন টুডে২৪-কে বলেন, “আমার ভাই কোনো অপরাধ করেনি। তাকে ওজু করার সময় নামাজে দাঁড়ানোর আগে শহীদ করা হলো। আমরা এই খুনি রেজুয়ান ও তার গডফাদারদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই।”
ক্যাম্পের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং এই আন্তঃসীমান্ত মাদক কারবারি ও খুনিদের দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও যৌথ সাঁড়াশি অভিযান কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ রোহিঙ্গারা।
মন্তব্য করুন