গাইড জসিমের চরম প্রতারণা: চকরিয়া-আলীকদম ট্যুর মাটি ১৪ ভ্রমণকারীর
**নেশন টুডে২৪ নিউজ ডেস্ক:** পাহাড়ি ট্র্যাকিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে গিয়ে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন ১৪ জনের একটি ভ্রমণকারী দল। চকরিয়া টু আলীকদম (পালংখিয়াং, থানকোয়াইন ও রুমরাং পাহাড়) রুটে ট্র্যাকিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই দলটিকে স্থানীয় গাইড জসিমের লোভ ও দায়িত্বহীনতার কারণে মাঝপথ থেকেই পুরো ট্যুর বাতিল করে ফিরে আসতে হয়েছে। অভিযুক্ত গাইড জসিমের মোবাইল নম্বর: **+880 1850-797027**।
ভুক্তভোগী পর্যটকদের পক্ষ থেকে ঘটনার যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
### ১. গাইড সমিতি ও জনবল নিয়ে জালিয়াতি
ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, ১৪ জনের দলের জন্য গাইড জসিম জানায় যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২ জন গাইড লাগবে এবং ৩ দিনের ফি বাবদ (অন্যান্য খরচ বাদে) ১০,০০০ টাকা দিতে হবে। ভ্রমণকারীরা এতে সম্মত হন। কিন্তু জসিম বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গাইড সমিতিতে জালিয়াতি করে মাত্র ১২ জনের নাম জমা দেয় (যেহেতু ১২ জনের জন্য ১ জন গাইডই যথেষ্ট)। বাকি ২ জন সদস্যকে সে সমিতিতে না নিয়ে, অবৈধভাবে অন্য পথে লুকিয়ে আমতলী ঘাটে যেতে বলে। মূলত কোনো নিবন্ধিত গাইড না এনে নিজের এক ‘হেল্পিং হ্যান্ড’-কে দ্বিতীয় গাইড সাজিয়ে টাকা আত্মসাতের ফন্দি করেছিল সে। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েও নিজেদের দলের সদস্যদের চোরের মতো লুকিয়ে যাতায়াত করতে দেখে পর্যটকদের সন্দেহ হয় এবং তারা ১ জন গাইডের টাকাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২. নৌকা ভাড়ায় দ্বিগুণ অর্থ দাবি
শুধু গাইড ফি নয়, নৌকা ভাড়া নিয়েও চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেয় জসিম। আমতলী তৈলখাল ঘাট থেকে দোচরী বাজার যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই নৌকা ভাড়া ৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং জসিমকে ৩,০০০ টাকা অগ্রিমও দেওয়া হয়। কিন্তু আমতলী ঘাটে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে জসিম হঠাৎ দাবি করে নৌকা ভাড়া ১৬,০০০ টাকা! পূর্বের চুক্তি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সে পদে পদে টাকা বাড়াতে থাকে, যা পর্যটকদের চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।
৩. সদাই নষ্ট ও পর্যটকদের চরম ভোগান্তি
গাইডের এমন একের পর এক জালিয়াতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বাধ্য হয়ে ভ্রমণকারী দলটি ট্যুর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। পাহাড়ে ৩/৪ দিন থাকার জন্য কেনা মুরগিসহ প্রচুর সদাইপাতি নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েন। স্থানীয় বাজারে সেসব সদাই ফেরত দিতে গেলে দোকানদাররা সুযোগ বুঝে মাত্র ৫০% দাম দিতে চায়। রাগে ও ক্ষোভে পর্যটকরা তা ফেরত না দেওয়ায় বিপুল পরিমাণ খাবার ও সদাই নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে দলটি নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার চলে গেলেও ঈদের পরবর্তী মৌসুম হওয়ায় সেখানেও থাকার জায়গা পেতে চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় তাদের।
**ভ্রমণকারীদের সতর্কতা বার্তা:**
> “এই লোভী ও প্রতারক গাইড জসিম (+880 1850-797027) থেকে আলীকদম ও চকরিয়া রুটের সব পর্যটকদের সাবধান থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। সামান্য কিছু টাকার লোভের জন্য সে পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্থানীয় নিয়মকানুন এবং একটি পুরো দলের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ট্যুর নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।”
পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটকদের এমন হেনস্তা ও জালিয়াতি রোধে স্থানীয় প্রশাসন এবং গাইড সমিতির কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছে
ন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন