ডুয়েট ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ডেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: ক্ষমতার নোংরা দাপট বনাম ছাত্রসমাজের প্রতিরোধ
বিশেষ প্রতিবেদক, নেশন টুডে২৪
গাজীপুর: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ডেকে এনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের বর্বরোচিত হামলা এবং এর জেরে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মুখে গণতন্ত্র, ইনসাফ আর অধিকারের বুলি আওড়ালেও মাঠপর্যায়ে ছাত্রসংগঠনটির এমন উগ্র ও সহিংস রূপ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে পড়াশোনা বাদ দিয়ে স্রেফ ক্ষমতার দাপট দেখানোর জন্য খোদ ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত। এই রক্তাক্ত পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে এখনো পেশিশক্তি ও লাঠিয়াল বাহিনীর আদিম রাজনীতিকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে।
রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস ও সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধ
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হামলার একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষার্থে এবং ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এর ফলে পুরো ডুয়েট ক্যাম্পাস যেন এক রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। সাধারণ ছাত্রদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার এই সংস্কৃতিকে কোনোভাবেই সুস্থ ছাত্ররাজনীতি বলা যায় না। যারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, নিজেদের সহপাঠীদের ওপর বহিরাগত গুন্ডা দিয়ে আঘাত করতে তাদের বিবেক কীভাবে সায় দিল, তা নিয়ে আজ বড় প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ ছাত্রসমাজ আজ জানতে চায়—এটাই কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত সুবিচার?
ভিকটিম কার্ড খেলার চেষ্টা ও মিডিয়া ট্রায়াল
ঘটনার পর স্বভাবসুলভভাবেই শুরু হয়েছে নানারকম অজুহাত আর রাজনৈতিক ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা। টকশো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিষ্পাপ দাবি করে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার এবং কুমিরের কান্না কাঁদার অপচেষ্টা নজরে আসছে। এমনকি ঘটনার পর থেকেই নির্দিষ্ট কিছু আইটি সেল ও প্রচারমাধ্যম বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং উল্টো গল্প সাজাতে মিডিয়া ট্রায়ালে নেমে পড়েছে। কিন্তু ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বোকা নয়; নিজেদের স্বার্থে কারা বহিরাগতদের ডেকে এনে সাধারণ ছাত্রদের জীবন বিপন্ন করেছে, তা সবার সামনে আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কথা আর কাজের এই চরম অমিল সচেতন ছাত্রসমাজ ভালোভাবেই বোঝে। পরনিন্দা আর নোংরা প্রোপাগান্ডার রাজনীতি কখনো দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না।
সুস্থ ধারার রাজনীতির আহ্বান
জনগণ বা ছাত্রসমাজ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে যে সুযোগ ও আস্থা দিয়েছিল, তা ধরে রাখতে না পারা চরম ব্যর্থতার শামিল। নিজেদের এই ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে না চাপিয়ে কিংবা কৃত্রিম ‘মব’ সৃষ্টি না করে, সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করা এখন সময়ের দাবি।
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বিবেচনাবোধ খাটিয়ে এই ধরনের নোংরা মাস্তানি ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যদি সত্যিই ছাত্র বা পাবলিক এনগেজমেন্ট বাড়াতে হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা না করে জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী কাজ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই গণপ্রতিরোধ আগামী দিনে যেকোনো সন্ত্রাসী ও দখলদারিত্বের রাজনীতির জন্য কঠোর জবাব হয়ে দাঁড়াবে।
নেশন টুডে২৪ নিউজ
মন্তব্য করুন