প্রিয় মুসলিম উ’ম্মা’হর ভাইয়েরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমি আ’তা’উ’ল্লাহ আ’বু আ’ম্মা’র জু’নু’নী। জন্ম ১৯৭৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে, এক রো’হিঙ্গা শরণার্থী পরিবারে। আমার বাবা গোলাম শরীফ, আমরা সাত ভাই ও দুই বোন—আমি অষ্টম। শৈশবেই জীবনের বাস্তবতা আমাকে শিখিয়েছে বঞ্চনা, ত্যাগ আর সংগ্রামের অর্থ। পরবর্তীতে পরিবারসহ পবিত্র মক্কা নগরীতে বসবাসের সুযোগ হয়, যেখানে ইসলামী শিক্ষার ছায়ায় আমি বড় হই।
এক সময় আমার সামনে ছিল স্বচ্ছন্দ, বিলাসবহুল একটি জীবন। কিন্তু আমার অন্তর সেই জীবনে শান্তি খুঁজে পায়নি। যখন দেখেছি মায়ানমারের নি’র্যাতিত মুসলিমরা জালেমের হাতে অসহায়, তখন নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। আমি পাহাড়-পর্বতকে বেছে নিয়েছি—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
কিন্তু আজ আমি বন্দী।
চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে আসার পর, যে দেশকে আমি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের আশ্রয়স্থল মনে করেছিলাম, সেই দেশেই আমি গ্রেফতার হলাম। এই বাস্তবতা আমাকে বিস্মিত করে, ব্যথিত করে।
আমি ভাবি—যারা আমে’রি’কায় গিয়ে আফিয়াকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখে, যারা ফি’লি’স্তিনে গিয়ে আল-আকসা স্বাধীন করার আবেগ প্রকাশ করে, তারা আজ কোথায়? সেই আবেগ, সেই অনুভূতি কি শুধুই কথায় সীমাবদ্ধ?
আজ আমি তাদেরই দেশে বন্দী অবস্থায় আছি।
শুধু আমি নই—আমার মতো হাজারো বাংলাদেশি আলেম, দ্বীনের পথে থাকা মানুষ, আজ কারাগারে বন্দী। তাদের কণ্ঠ নীরব, কিন্তু তাদের কষ্ট বাস্তব।
তাহলে প্রশ্ন জাগে—সেই আবেগী ভাইদের আবেগ এখন কোথায়?
আমার এই চিঠি অভিযোগ নয়, বরং একটি প্রশ্ন—আমাদের ভ্রাতৃত্ব কি শুধুই স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবতায় তার প্রতিফলন ঘটবে?
আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের সবাইকে সত্য বুঝার তাওফিক দেন, ন্যায়ের পথে দৃঢ় রাখেন এবং মজলুমদের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দান করেন।
ওয়াসসালাম,
আ’তা’উ’ল্লাহ আ’বু আ’ম্মা’র জু’নু’নী
বিঃদ্রঃ চিঠিটা তার লেখা নয়, এটি সম্পূর্ণ আমার থেকে বানিয়ে লেখা। কিন্তু হতে পারে আ’ফি’য়া সিদ্দিকীর মত তিনিও একদিন বাংলাদেশ নিয়ে এমন একটি চিঠি লেখবে। আর সেদিন আমরা ইতিহাসে গাদ্দার-মুনাফিক হয়ে থাকবো।
মন্তব্য করুন